পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ভেষজ ফল তাল
ভাদ্রের ‘তালপাকা গরমে’ বাঙালির ঘরে ঘরে তালের পিঠা তৈরি একটি প্রাচীন ও লোকায়ত ঐতিহ্য
হাঁড়িকাব্য নিউজ
ভাদ্র মাসে তালের পিঠা খাওয়ার রেওয়াজ বাংলার এক প্রাচীন ও লোকায়ত ঐতিহ্য। তবে তাল শুধু পিঠা তৈরিতে ব্যবহার হয় না। তাল অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ভেষজ ফল। কচি অবস্থায় তালের শাঁসও খাওয়া যায়। পক্ব অবস্থায় পাকা তালের রস হিসেবে খাওয়া হয়। তালের উভয় অবস্থাতেই প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে।
তালের পুষ্টি উপাদান
পুষ্টিবিদদের তথ্য অনুযায়ী প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা তালে খাদ্যশক্তি থাকে ৮৭ কিলোক্যালরি এবং কচি তালের শাঁসে ২৯ কিলোক্যালরি। পাঁকা তালে জলীয় অংশ থাকে ৭৭.৫ গ্রাম, কচি তালের শাঁসে থাকে ৯২.৩ গ্রাম। পাকা তালে শর্করা (কার্বোহাইড্রেট) থাকে ১০.৯ গ্রাম, কচি তালের শাঁসে থাকে ৬.৫ গ্রাম। পাকা তালে খাদ্য আঁশ (ফাইবার) থাকে ১ গ্রাম, কচি তালের শাঁসে থাকে ০.২ গ্রাম। পাকা তালে ক্যালসিয়াম থাকে ২৭ মিলিগ্রাম, কচি তালের শাঁসে থাকে ৪৩ মিলিগ্রাম। পাকা তালে ভিটামিন সি থাকে ৫ মিলিগ্রাম, কচি তালের শাঁসে থাকে ৪ মিলিগ্রাম। পাকা তালে ফসফরাস থাকে ৩০ মিলিগ্রাম, আয়রন (লৌহ) ধাকে ১ মিলিগ্রাম, আমিষ (প্রোটিন) থাকে ০.৮ গ্রাম
তালের প্রধান স্বাস্থ্য উপকারিতা
হাড় ও দাঁতের গঠন: তালে থাকা প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।
ভিটামিন বি-র ঘাটতি পূরণ: পাকা তালের রসে থাকা ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স শরীরের ক্লান্তি দূর করে এবং ভিটামিন বি-র অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ করে।
হজমে সাহায্য ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর: তালের আঁশ ও পুষ্টি উপাদান পরিপাকতন্ত্র ভালো রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য বা অন্ত্রের রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে।
ক্যান্সার প্রতিরোধ: এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণ সমৃদ্ধ হওয়ায় শরীরের কোষগুলোকে ভালো রাখে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
পানিশূন্যতা রোধ: কচি তালের শাঁসে ৯২ শতাংশের বেশি জলীয় অংশ থাকায় এটি গরমের দিনে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে এবং পানিশূন্যতা দূর করে।
স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি: নিয়মিত পরিমিত মাত্রায় তাল খেলে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কমে এবং স্মৃতিশক্তি প্রখর হয়।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)